আজঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ | ১২:১৭ pm

সর্প বিষ উৎপাদন , অাগামীর সম্ভাবনাময় শিল্প

Amio

November 22, 2015 at 9:03 pm, Last Update: November 22, 2015 at 9:38 pm

বিশ্বের ভয়ঙ্কর প্রাণী সমূহের মধ্যে সাপ একটি ভয়ঙ্কর নাম। যার কথা শুনলে শরীর মন শিহরে উঠে। আর যদি ছাড়া অবস্থায় সামনে হাজির হয় তবে জীবন নাভিশ্বাস উঠবে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় সাপ পালন এখন একটি সম্ভাব্য শিল্প হিসাবে গড়ে উঠার প্রত্যয়ে। সরকারী সদিচ্ছা এ শিল্পকে বৃহত্তর কলেবরে সাজাতে সাহায্য করবে। সাপ পালনে সরকারী অনুমোদন কার্যকরী হলে সর্প বিষ রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনের হাতছানি দেয়।আমাদের দেশে অনেকেই এখন সাপের খামার করছে। কয়েকজন খামারীর আবেদনপত্র সরকারী অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। খামারীরা এ খাত থেকে প্রচুর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার স্বপ্ন নিয়ে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্তহীনতায় তাদের স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।এখন আধুনিকতার যুগ। সাপ সর্বদা ভয়ঙ্কর একটি প্রাণী তা জানা স‌ত্বেও যারা এ পেশায় নিয়োজিত হতে চায় সরকার তাদের অনুমোদন প্রদান করুক । তাহলে কোটি কোটি টাকার বিষ অবৈধ ভাবে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। বাড়বে রাজস্ব বাড়বে বৈদেশীক মুদ্রা।আমাদের দেশে প্রাকৃতিক দূর্যোগ লেগেই থাকে। প্রতি বছর কোন না কোন এলাকায় বন্যা-ঘূর্নিঝর-পাহাড়ী ঢল-জলোছ্বাসে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। যা সত্যি বিবেচনা যোগ্য এ শিল্প প্রতিষ্ঠায়। এ সব বিষয়কে মাথায় রেখে একটু লোকালয় থেকে দূরে থেকে উচ্চ ভূমিতে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে খামার করার উৎসাহ প্রদান করা যেতে পারে। যেমন ভাবে কুমির শিল্প গড়ে উঠেছে। নিরাপত্তা বেষ্টনী এমনভাবে করতে হবে যাতে কোন অবস্থায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ হলে বেষ্টনীর বাহিরে এসে লোকালয়ে ত্রাস সৃষ্টি না করে। এ নিরপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই সকল প্রকার অবকাঠামোসহ সাপের প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাও থাকবে যেমন- ব্যাঙ, ইঁদুর, মুরগীর বাচ্চা, কোয়েল পাখির বাচ্চা ইত্যাদি চাষ বা পালন। সপ্তাহে একটি বা দু’টি ইদুর বা এ জাতীয় খাদ্য দিলের সাপের সপ্তাহের খাবার পার।বিশ্বে প্রায় ৩০০০ প্রজাতীর সাপ তার মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতীর সাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। সারাবিশ্বে প্রতি বছর সাপের কাপড়ে ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ মানুষ প্রাণত্যাগ করে। তাই যথাযথ জ্ঞান প্রয়োজন সাপের খামার পরিকল্পনার পূর্বে তা না হলে অকালমৃত্যু নিঃসন্দেহে।সাপের বিষ থেকে মানবদেহের মূল্যবান ঔষধ তৈরি হয়ে থাকে। যেমন- কলেরা, স্মলপক্স, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে সর্প বিষের চাহিদা অপ্রতুল।এছাড়াও সাপের মাংস ধর্মভেদে অনেক মানুষের প্রিয় খাদ্য যা স্থান ভেদে ১৬ থেকে ২৯ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিক্রয় হয়ে থাকে। এছাড়াও সাপের চামড়াও উচ্চমূল্যে বিক্রয়যোগ্য।বর্তমান বিশ্বে সর্পবিষ উৎপাদন ও রপ্তানীতে চীন, ভারত ও থাইল্যান্ড অগ্রগণ্য। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০১৫সালে সারা বিশ্বে সর্পবিষের চাহিদা প্রায় ৮,১২৬ কেজি এবং আগামী ৭বছরে বৈশ্বিকচাহিদার প্রেক্ষিতে ২০২২সালে এর পরিমাণ দাড়াবে প্রায় ১১,৪৩৪ কেজি।সারা বিশ্বে যে সর্পবিষ উৎপাদন হয় তার অর্ধেকেরও বেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ সমূ ক্রয় করে থাকে। এরমধ্যে জার্মানী ২০%, হল্যান্ড ১৩%, ফ্রান্স ১২%, যুক্তরাজ্য ১১% এবং স্পেন ৯% সর্পবিষ আমদানী করে।১গ্রাম শুষ্ক সর্পবিষের আন্তর্জাতিক মূল্য ১৯০ মার্কিন ডলার থেকে ৩২০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিক্রয় হয়। তাহলে এক কেজি বিষের মূল্য দাঁড়ায় ১৯০,০০০ মার্কিন ডলার থেকে ৩২,০০,০০০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ১,৪৮,২০,০০০/- (এক কোটি আটচল্লিশ লাখ বিশ হাজার) টাকা থেকে ২৪,৯৬,০০,০০০/- (চব্বিশ কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ) টাকা ।দরকারী প‌শিক্ষণ, প্রয়োজনে সরকারী ব্যবস্থানাপনায় বিদেশ হতে কারিগরী প্রশিক্ষক এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে। ২০২২সালকে আমাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ এগুয় তাহলে বিশ্ববাজারের ১১,৪৩৪ কেজি সর্প বিষের মধ্যে বাংলাদেশের সর্পবিষ এক উজ্বল নক্ষত্র হয়ে বিশ্ব দরবারের আবির্ভূত হবে ।সাপের বিষ যখন সংগ্রহ করা হয় তখন তা তরলাকৃতি থাকে। পরে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তা শুষ্ক করা হয়। সাধারণত প্রতি ১০০গ্রাম তরল বিষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ২০গ্রাম শুষ্ক বিষ পাওয়া যায়।সাধারণত প্রতিটি সাপ থেকে প্রতি মৌসুমে ২০ বার বিষ সংগ্রহ করা যায়। প্রতিবারে ১০০মিগ্রা তরল বিষ সংগ্রহ করা যায় এবং গড় পড়তায় একটি সাপ এক মৌসুমে ২০০০মিগ্রা তরল অথবা ০.২গ্রাম শুষ্ক বিষ প্রদানেসক্ষম।দুই পদ্ধতিতে সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয় ।(১) ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে খামারী সাপের মাথা ধরে গ্লাস বা প্লাস্টিকের পাত্রে বিষ সংগ্রহ করে।(২) বৈদ্যতিক শক দিয়ে। এ পদ্ধতিতে সাপের মাথায় ২ থেকে ৫ ওয়াটের মাত্রায় ১-২সেকেন্টের একটি বৈদ্যুতিক শক দেয়ার মাধ্যমে বিষ সংগ্রহ করা হয়।ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একজনেই কার্য সম্পাদনে সহায়ক হয় কিন্তু বৈদ্যুতিক পন্থায় দু’জন ব্যক্তিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়।ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ব্যক্তি সামান্য অসতর্ক হলেই তার হাতে কামড় দেয় এবং কামড়ের ফলে ৯০% ব্যক্তিই স্বল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।কিন্তু বৈদ্যুতিক পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা গ্রহনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ২ জন ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষ সংগ্রহ করা হয়। যদি দৈব দূর্ঘটনা ঘটে তবে তাৎক্ষণিক সাথের ব্যক্তি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ পায়।একটি আধুনিক সাপের খামারের উদ্যোগ গ্রহনের পূর্বে বাহ্যিক নিরাপত্তার সকল স্তর সম্পন্ন করা, খামারের ভিতরে প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় প্রতিরোধক ভ্যাকসিন, ডিউটিকালীন ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক সতর্কতা, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল মনিটরিং সেল স্থাপন অগ্রগন্য এবং গুরুত্বপূর্ন ।

কৃ‌ষি‌বিদ: ম‌স্তোফা নুর মোহাম্মদ

টুইটারে ফলো করুনঃ