আজঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ | ১২:১৮ pm

পদক কম, অ্যাথলিটদের কয়লাখনিতে পাঠাচ্ছেন কিম জং

নিজস্ব প্রতিবেদক

August 25, 2016 at 7:45 pm, Last Update: August 25, 2016 at 6:38 pm

north-koreaসোনা জিতেও কেন রি সে গুয়াংয়ের মুখে হাসি নেই? কিংবা মেয়েদের জিমন্যাস্ট হং উন জংয়ের মুখে হাসি শুধু দক্ষিণ কোরীয় প্রতিযোগী লি ইউন জুর সঙ্গে সেলফি তোলার সময়?

পুরোটাই ছিল অনুমান৷ উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন-এর চোখ রাঙানিকে ভয় করেন না, সেদেশে এমন কেউ নেই৷ অতএব, রিও ওলিম্পিকে গেমস ভিলেজে ওঁদের সবাইকেই গুটিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে পুরোটা সময়৷ কিন্তু, তাই বলে পদক জিতেও মুখ ভার?

এবার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যা রিপোর্ট বেরিয়েছে, তাতে এমন মনোভাবের একটা স্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেল৷ যা খবর, তাতে রিও থেকে অ্যাথলিটরা ফিরলেই নাকি কিমের সামনে হাজির হতে হবে৷ আর তার পরই ঠিক হবে, কার সঙ্গে কী হবে? কী হবে, তারও একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে৷ যাঁরা পদক পাননি, তাঁদের প্রত্যেকের দৈনিক রেশনে বরাদ্দ কমছে৷

আর প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স যাঁদের নেই, তাঁদের হয়তো কয়লাখনিতে কাজ করতে পাঠানো হবে৷ যেমনটা হয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপে পর্তুগালের কাছে হেরে যাওয়া ফুটবলারদের ক্ষেত্রে৷ ওঁদের কাউকে আবার স্কুলে নতুন করে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়েছিল৷ বাকিদের কয়লাখনিতে৷ যাঁদের খনিতে পাঠানো হয়েছিল, তাঁদের বছর দুয়েকের মধ্যে মাঠে ফিরতে দেওয়া হয়নি৷ এবারও তাই হবে? রিও থেকে মোট সাতটি পদক জিতেছে উত্তর কোরিয়া৷ দু’টো সোনা, তিনটো রুপো এবং দু’টো ব্রোঞ্জ৷ কিন্তু, এতে একেবারেই নাকি খুশি নন কিম৷ আগেই বলে দিয়েছিলেন, শুধু শুধু মুখ দেখাতে ওলিম্পিকে গেলে হবে না৷ অকারণ সেলফিও নয়৷ তা হলে? কিমের দাবি ছিল, কম সংখ্যায় অ্যাথলিট পাঠাও, আর বেশি পদক আনো৷ সেজন্যই বেছে বেছে মাত্র ৩১ জনের দল পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া৷ সবাই পদক পাবেন, এমনটা মোটেই দাবি করা হয়নি৷ কিমের দাবি ছিল, অন্তত পাঁচটা সোনা চাই৷ সব মিলিয়ে গোটা সতেরো পদক চাইই চাই৷

কিন্তু, প্রত্যাশার চেয়ে দশটা পদক কম পেয়েছে উত্তর কোরিয়া৷ অতএব চটেছেন কিম৷ বুধবারই জাপানের দিকে ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষামূলকভাবে ছোড়া নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে কিম৷ যদিও এসবে তাঁর কিছু যায় আসে না৷ এই আবহে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে খবর, কিম আসলে বোঝাতে চান, তাঁর মেজাজ কেমন আছে? সেজন্যই রিও থেকে অ্যাথলিটরা দেশে ফেরার ব্যাপারে দেরি করছেন৷ কারণ, ফিরলেই হয়তো শাস্তি৷ প্রশ্ন, তাহলে যিনি সোনা জিতেছেন তাঁর কান্না কেন? উত্তর, সোনা পেয়েছেন৷ কিন্তু, প্রত্যাশা অনুযায়ী পয়েন্ট নাকি পাননি৷ এতেও রাগ হতে পারে কিমের৷

টুইটারে ফলো করুনঃ