আজঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ | ১২:১৫ pm

ইসলাম বিদ্বেষী ট্রাম্পের পাশে আইএস

নিজস্ব প্রতিবেদক

August 31, 2016 at 7:21 am

trump-webমার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে ঘটনাক্রম ফের নাটকীয় মোড় নিল৷ ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট তথা দায়েশ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে জোরালো সওয়াল শুরু করল৷ ইসলামিক স্টেটের অজস্র সমর্থক বিভিন্ন জেহাদি ওয়েবসাইটে এখন ট্রাম্পের সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছে৷  সিরিয়ায় বসে থাকা দায়েশের বড় কর্তারাও নাকি চাইছেন ট্রাম্পই ক্ষমতায় আসুন৷ এই অবস্থায় ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ শুনে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে মার্কিন মুলুকে৷

প্রশ্ন উঠেছে, চরম শত্রূর জয় এবং ক্ষমতাদখল কেন চাইছে দায়েশ? ট্রাম্পের পরাজয়, মৃত্যু এবং নিন্দাই যেখানে কাম্য, সেখানে কেন তারা চাইছে ট্রাম্প জিতুক? উত্তরে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিয়েছে দায়েশ সমর্থকরা৷ তাদের ব্যাখ্যা, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু র‍্যাডিক্যাল ইসলামের বিদ্বেষীই নয়, জঙ্গি বা মৌলবাদী ইসলামের পাশাপাশি তীব্র মুসলিম বিদ্বেষীও বটে৷ ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে তিনি কথামতো অভিবাসী সাধারণ মুসলিমদেরও আমেরিকা থেকে তাড়াবেন৷ উদার মনোভাবাপন্ন, শিক্ষিত মুসলিমরাও  ট্রাম্পের টার্গেট৷ এতে মার্কিন নাগরিক মুসলিমরাই  ট্রাম্পের জমানায় আমেরিকা বিদ্বেষী হয়ে উঠবেন৷ ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়বে৷ বাড়বে মুসলমান বিদ্বেষও৷ আমেরিকার বহুজাতিক সহাবস্থানের ভাবমূর্তি ধাক্কা খাবে৷ ফলে উদার, শিক্ষিত মার্কিন মুসলমানদের মধ্যে ইসলামিক স্টেটের প্রতি সহানুভূতি এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে জেহাদ বাড়বে৷ অজস্র শিক্ষিত মুসলিম যুবক জঙ্গি-ইসলামের খাতায় নাম লেখাবেন৷ এভাবে আখেরে লাভ হবে দায়েশেরই৷ বাড়বে মুজাহিদের সংখ্যা৷ তাই ট্রাম্প যাতে ক্ষমতায় আসেন সেজন্য অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রাম্পের সমর্থনে গলা ফাটাচ্ছে দয়েশ সমর্থকরা৷ নজিরবিহীন এই ঘটনায় অবাক ট্রাম্পের সমর্থকরাও৷

টেলিগ্রাম নামে একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে দায়েশ সমর্থকরা ও জঙ্গিরা জানিয়েছে, প্রায়ই ট্রাম্প হুমকি দেন, ক্ষমতায় এল ইসলামিক স্টেটকে নরক দেখিয়ে ছাড়ব৷ ওদের নিশ্চিহ্ন করতে শক্তিশালী আঘাত হানা হবে৷ দরকারে পরমাণু অস্ত্রও ব্যবহার করা হবে৷ ট্রাম্প আগেও হুমকি দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে ৩০ হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা সিরিয়া ও ইরাকে পাঠানো হবে দায়েশকে নিশ্চিহ্ন করতে৷ ট্রাম্পের ফরমুলা, ইজরায়েল ও রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দুনিয়াজুড়ে মুসলিম জঙ্গিদের মোকাবিলা করা হবে৷ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের শর্ত মেনে তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেও রাজি ৭০ বছরের এই মার্কিন ধনকুবের ট্রাম্প৷ তাই ট্রাম্পের বিদ্বেষ ও হুমকি যত বাড়বে ততই আমেরিকা ও বহির্বিশ্বে জমি শক্ত হবে দায়েশের৷ জনপ্রিয়তাও বাড়বে তাদের৷

দায়েশ সমর্থকরা ছবি-সহ কখনও নিজেদের বক্তব্য পোস্ট করছে, কখনও টুইট করছে, “আল্লার মেহেরবানি হবে যদি আমেরিকায় ট্রাম্প ক্ষমতায় আসে৷ একটা চূড়ান্ত ধর্মযুদ্ধ হোক৷ একদিকে, ট্রাম্প-পুতিন ও পশ্চিমি সভ্যতা৷ আরেকদিকে শুধু মুসলিমরা৷ দেখা যাবে কার কত দম৷” দায়েশ সমর্থকদের ব্যাখ্যা, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্ষমতায় এলে আখেরে তাদের ক্ষতি৷ কারণ ওবামা, হিলারি-সহ ডেমোক্র্যাটরা ইসলামের মানবতার দিকটি বার বার তুলে ধরেছেন৷ উদার, শিক্ষিত, গণতান্ত্রিক মানবতাবাদী মুসলিমদের নিয়ে তাঁরা চলতে চান৷ তাঁরা মোটেও মুসলিম বিদ্বেষী নন৷ ফলে হিলারি ক্ষমতায় এলে ধর্মীয় মেরুকরণ সম্ভব হবে না৷ মুসলিম যুবকরাও জেহাদে আকৃষ্ট হবে না৷ ইসলামিক স্টেটও জনপ্রিয় হবে না৷ জেহাদের অক্সিজেন হল মুজাহিদরা৷ ঘৃণা না ছড়ালে মুজাহিদ তৈরি হবে কোথা থেকে? আর ঘৃণা তৈরিতে সাহায্য করবে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষ, মত দায়েশের৷

টুইটারে ফলো করুনঃ