আজঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ | ১২:১৯ pm

মিতু হত্যা : তদন্তে অগ্রগতি নেই, চাকরি থেকে অব্যাহতি স্বামী বাবুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক

September 7, 2016 at 10:34 am, Last Update: September 7, 2016 at 6:36 am

জঙ্গিবিরোধী সাহসিক ভূমিকার জন্যে সারাদেশে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ৩ মাস পরও তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয় নি। এরই মধ্যে মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের পুলিশ বাহিনী থেকে পদত্যাগের আবেদন গৃহীত হয়ে গেছে। যদিও পদত্যাগ বাধ্য হয়ে করেছেন উল্লেখ করে বাবুল আবারও কাজে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করে আবেদন করেছিলেন।

মিতু হত্যাকাণ্ডের ৩ মাসে তদন্তে অগ্রগতি না হলেও প্রথম থেকেই আলোচনায় ছিলেন বাবুল আক্তার। গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এ পুলিশ অফিসারের স্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এটা জঙ্গিদের কাজ হতে পারে বলে বক্তব্যও দিয়েছিলেন।

স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া বাবুল ছুটিতে ছিলেন, কিন্তু ২৪ জুন  শ্বশুরের বাড়ি থেকেই তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে এসব গুজব উড়িয়ে দেন বাবুল। এরই মধ্যে বাবুল আক্তারের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লেও প্রাথমিকভাবে সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলে নি।

গত ২৪ আগস্ট চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্যে করা আবেদনপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। এর আগে তাঁর পদত্যাগপত্রটিও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছিল। এই দুই আবেদনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বাবুল আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ অধিশাখা-১ এর উপসচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদানকৃত মো. বাবুল আক্তার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এবং পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত)- কে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে চাকরি (পুলিশ ক্যাডার) হতে এতদ্বারা অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বের কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে বাবুল আক্তার ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৫ সালে পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) ব্যাপক প্রশংসিত হন বাবুল আক্তার। তখন তিনি সেখানে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবিরোধী অভিযানে তিনি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখেন। যেকারণে তিনি পিপিএম পদকও পেয়েছিলেন। গত ৫ এপ্রিল তিনি এসপি হিসেবে পদোন্নতি পান। পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর,২০১৬) অব্যাহতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পুলিশ সদর দফতরে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন।

পদোন্নতির ঠিক এক মাস পর গত ৫ জুন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও গুলি করে হত্যা করে। তখন তিনি ঢাকার কর্মস্থলে ছিলেন। মিতু হত্যায় প্রথম দিকে জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ২৪ জুন মধ্যরাতে হঠাৎ বাবুল আক্তারকে মিতু হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে। ১৬ ঘণ্টা পর তাকে ২৫ জুন সন্ধ্যায় আবার শ্বশুরের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

২৪ জুন গোয়েন্দা কার্যালয়ে ১৬ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, বাদী হিসেবে বাবুল আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।  মিতু হত্যাকাণ্ডের বাদী ছিলেন বাবুল আক্তার। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত পরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

পরে চট্টগ্রামে গিয়ে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের পর চাকরি করার মতো মানসিক অবস্থা না থাকায় বাবুল আক্তার চাকরি থেকে অব্যাহতি পেতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।’ কিন্তু এর কয়েকদিন পর গত ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে গিয়ে কর্মস্থলে পদায়ন চেয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দেন।

গত ৯ আগস্ট চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র প্রত্যাহার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আরেকটি আবেদন করেন বাবুল আক্তার।

ওই আবেদনপত্রের একটি অংশে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিগত ২৪-০৬-২০১৬ ইং তারিখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকরির অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই চাকরি। এমতাবস্থায় উক্ত অব্যাহতি পত্রটি  প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি।’ কিন্তু তার সেই আবেদন পত্র আর গ্রহণযোগ্য হয়নি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রথম আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির এএসপি কামরুজ্জামান মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মিতু হত্যার তদন্ত এখনও শেষ করতে পারিনি।’

টুইটারে ফলো করুনঃ