আজঃ শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭ | ১২:১৫ pm

আল্লাহতায়ালা ঘুমকে আরামপ্রদ করেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

September 25, 2016 at 9:55 am

ঘুমের জন্য রাত ও কাজের জন্য দিন নির্ধারিত। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা রাতকে ঘুম, স্বস্তি ও আরামের অনুকূল করে মানুষের ওপর বিশেষ অনুগ্রহ করেছেন। এটা একটা অশেষ নিয়ামতও বটে। যার শোকর আদায় করা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তার অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) ‎অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে ওই সম্প্রদায়ের জন্য যারা শোনে।’ -সূরা রূম: ২৩

কোরআনে কারিমের অন্যত্র আরও বলা হয়েছে, ‘আর তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে আবরণ ও নিদ্রাকে আরামপ্রদ করেছেন এবং দিনকে করেছেন জাগ্রত থাকার সময়।’ –সূরা ফোরকান: ৪৭

ঘুম মানুষের স্বস্তি আনয়ন করে, দিনের কঠোর পরিশ্রম ও কর্মব্যস্ততা থেকে মুক্তি দেয়। এ ছাড়াও রয়েছে ঘুমের অনেক উপকারিতা। অন্যদিকে রাত জাগার ফলে দিনে ঘুমের চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে মানুষের পেশা, ব্যবসা ইত্যাদি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অযথা রাত জাগা হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের বিপরীত কাজ। নবী করিম (সা.) এশার পূর্বে ঘুম ও এশার পর কথোপকথন অপছন্দ করতেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু বারযা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এশার পূর্বে ঘুম ও পরে কথাবার্তা অপছন্দ করতেন।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

অযথা ঘুম দমিয়ে রাখার ফলে শরীরে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুম দমিয়ে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ঘুম দমিয়ে রাখায় স্বভাব রূঢ় ও কর্কশ হয়, মননশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কর্মের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় ও শরীরের চঞ্চলতা দূরীভূত হয় ইত্যাদি। তাই ঘুম ও রাত জাগায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা শরীর ও সুস্থতার জন্য কল্যাণকর।

সাহাবি হজরত মুয়ায বিন জাবাল (রা.) বলতেন, ‘আর আমি (রাতে) ঘুমাই এবং জেগে নামাজ আদায় করি, জেগে থেকে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে যেভাবে সওয়াবের আশা করি, ঠিক তেমনি ঘুমানোর মাধ্যমেও সওয়াবের আশা করি।’ –সহিহ বোখারি

যেহেতু ঘুম একটি অতি জরুরি বিষয়। তাই এখানেও হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতকে প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। কেননা মুসলমানের প্রতিটি কাজ ইবাদতে পরিগণিত হয়- যদি তা রাসূল (সা.)-এর সুন্নত অনুযায়ী হয়। এর ফলে ঘুমও হবে, সুন্নতের ওপর আমল করার সওয়াবও মিলবে।

ঘুমানোর সুন্নতগুলো হলো-

এক. এশার নামাজ পড়ার পর দ্রুত ঘুমানোর চিন্তা করা অর্থাৎ দুনিয়াবি কথাবার্তা না বলা। -সহিহ বোখারি শরিফ

দুই. অজুর অবস্থায় ঘুমানো। -তিরমিজি শরিফ

তিন. ঘুমানোর পূর্বে তিনবার বিছানা ঝেড়ে নেওয়া। -তিরমিজি শরিফ

চার. ঘুমানোর আগে উভয় চোখে তিনবার সুরমা লাগানো। -শামায়েলে তিরমিজি

পাঁচ. কালেমায়ে তাইয়্যেবা পড়া। -জাদুল মায়াদ

ছয়. তাসবিহাতে ফাতেমি অর্থাৎ ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলা। – তিরমিজি শরিফ

সাত. তিন কুল, অর্থাৎ সূরায়ে ইখলাস, সূরায়ে ফালাক ও সূরায়ে নাস পড়ে দুই হাতে ফুঁক মেরে উভয় হাত দ্বারা সারা শরীর মুছে দেওয়া। এভাবে তিনবার করা। -তিরমিজি শরিফ

আট. সূরায়ে আলিফ লাম মীম আসসিজদা ও সূরায়ে মুলক পড়া। -তিরমিজি শরিফ

নয়. ডান পাশে ডান হাত চেহারার নিচে রেখে শয়ন করা। -তিরমিজি শরিফ

দশ. ঘুমানোর সময় এ দোয়া পড়া- ‘বি-ইসমিকা রাব্বি ওয়াতু জানবি ওয়া বিকা আরফাহু ইন আমসাকতা নাফসি ফাগফির লাহা ওয়াইন আরসালতাহা ফাহফাজহা তুহফাজু বিহি ইবাদাকাসসালিহিন।’

এগারো. এ দোয়াটিও বর্ণিত আছে- ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া।’

বারো. ঘুম না আসলে এ দোয়া পড়া- ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত-তাম্মাতি মিন গজবিহি ওয়া ইকাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহি ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিন ওয়া আইয়াহদুরুন। -আল আজকার

তেরো. মন্দ ও ভয়ঙ্কর দেখে ঘুম ভেঙে গেলে এ দোয়া পড়ে বাম দিকে থুথু ফেলা- ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানি, ওয়া শাররি হাজিহির রুয়া।’ –সুনানে আবু দাউদ

চৌদ্দ. ঘুম থেকে উঠে প্রথমে তিনবার আলহামদুলিল্লাহ বলা। -জাদুল মায়াদ

পনেরো. তারপর কালিমায়ে তায়্যিবা পড়া। -জাদুল মায়াদ

ষোলো. এর পর এ দোয়া পাঠ করা- ‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’ –তিরমিজি শরিফ

টুইটারে ফলো করুনঃ